কোনটি উত্তম?বার বার হজ্জ ওমরা করা নাকি আল্লাহর রাস্তায় দান করা?

আবার কখনো সদকা করা ওয়াজিব হয়ে যায়, যখন আত্মীয় হয় অভাবী আর সে হয় বিত্তবান। তেমনি প্রতিবেশীদের দান-সদকা করা। কারণ মুসলমান ভাই হওয়ার সূত্রে তারও অধিকার রয়েছে এর সম্পদে। হাদিসে এসেছে- ‘সে মুমিন নয় যে (খেয়ে) পরিতৃপ্ত হয়ে রাত্রি যাপন আর তার প্রতিবেশী অনাহারে থাকে। ’ (তাবরানি, আবু ইআলা) তেমনি নেকি কামাই করা যায় ধর্মীয় নানা সংস্থা-সোসাইটি, ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মক্তব-মাদরাসা এবং ইসলামের জন্য কর্মরত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে। 
জেনে নিন, কোনটি উত্তম?বার বার হজ্জ ওমরা করা নাকি আল্লাহর রাস্তায় দান করা?
আজ দাতা ও পৃষ্ঠপোষকের অভাবে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ একই সময়ে দারিদ্রপীড়িত বিভিন্ন মুসলিম দেশে খ্রিস্টান মিশনারি ও এনজিওগুলো সচ্ছলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যাদের কাজ ইসলামকে বিকৃতভাবে উপস্হাপন করা, মুসলিম ঐক্যে ফাটল ধরানো, মুসলিমদের ইসলাম থেকে খারিজ করা এবং খ্রিস্টান বানাতে না পারলেও কমপক্ষে তাদের ইসলামের চেতনা নড়বড়ে করে দেয়া। আবার অনেক ইসলামী প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে পারে না। এর জন্য মুসলমানদের সম্পদ স্বল্পতা দায়ী নয়। বর্তমানে অনেক মুসলিম দেশই বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আবার দাতা ও ব্যয়কারীরও অভাব নেই; কিন্তু অনেক অর্থ ও দানই অপাত্রে করা হচ্ছে।
ব্যয় হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় খাতে। প্রতি বছর যে লাখ লাখ মুসলিম নফল হজ্ব-উমরা করেন তারা যদি তাদের নফল হজ্বের অর্থ ইসলামী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে খরচ করেন অথবা ইসলামী ফান্ডগুলো স্ফীত করতে সাহায্য করেন, আর তা সঠিকভাবে ব্যয় করা হয় তাহলে তা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য আর্থ-সামাজিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে। ইসলামের পথে একনিষ্ঠভাবে দাওয়াতরত ব্যক্তিগণ এর দ্বারা খিস্টান মিশনারি, সমাজতন্ত্রী, নাস্তিক প্রভৃতি প্রাচ্য-প্রাশ্চাত্যের ধর্মহীন ষড়যন্ত্র তথা উম্মার মাঝে অনৈক্য বজায় রাখা, বিশুদ্ধ ইসলামী দৃষ্টিঙ্গি প্রতিরোধ ইত্যাদি মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। এসব যুক্তির মাধ্যমে আমি ইসলামপ্রিয় নেকিভক্ত ভাইদের সুপরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন এ পর্যন্ত যতগুলো হজ্ব-উমরা করেছেন তাতেই ক্ষান্ত হন। এতে দু’টি ভালো কাজ হবে : প্রথম, এ অর্থ ইসলামি কল্যাণমূলক ও দাওয়াতি কাজে ব্যয় করতে পারবেন এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি জায়গায় এমনটি এর বাইরে মুসলিম সংখ্যালঘু এলাকায় প্রেরণ করতে পারবেন।
দ্বিতীয়. এতে করে বিশ্বের সকল প্রানড় থেকে আগত ফরজ আদায়কারী অতিথি মুসলিম ভাইদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেয়া হবে। ফলে তারা আরও ভালোভাবে স্বসস্থি ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের হজ্ব সম্পন্ন করতে পারবেন। অন্যদের জন্য জায়গা করে দিতে নফল হজ্ব ছেড়ে দেয়া এবং হাজ্বীদের ভীড় হ্রাস করা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান রাখা ব্যক্তি মাত্রই বলবেন, নেকির কাজ। হাদীসে এসেছে- কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেকে তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। (বুখারি) আর যেসব আমল জিহাদের অর্নড়ভুক্ত সেগুলো যে হজ্ব জাতীয় আমলের চেয়ে উত্তম তা তো স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। মুসলমানদের ধর্মানড়রিত হওয়া থেকে বাঁচানো, দ্বীনকে অমুসলিম শত্রুদের চক্রানড় থেকে রক্ষা তো জিহাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা কালামে পাকে ইরশাদ করেন- তোমরা কি হাজিদের পানি পান করানো এবং মসজিদে হারাম আবাদ করাকে ওই ব্যক্তির (আমলের) সমতুল্য ভাবছো যে আল্লাহ এবং কিয়ামত দিবসে ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর রাসড়ায় জিহাদ করেছে? এরা আল্লাহর কাছে বরাবর নয়। আল্লাহ জালিম সমপ্রদায়কে হেদায়েত দেন না। যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আপন জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর রাসড়ায় জিহাদ করেছে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্তবা রয়েছে এবং এরাই কামিয়াব। (তাওবা ১৯-২০) লেখক: ড. ইউসুফ আল-কারজাভী
Previous
Next Post »